সম্ভাবনাময় প্রশ্নঃ পর্ব ১(বাংলাদেশ বিষয়াবলী)  36 তম বিসিএস

সম্ভাবনাময় প্রশ্নঃ পর্ব ১(বাংলাদেশ বিষয়াবলী) 36 তম বিসিএস

Price:

আরও পড়ুন


শুভেচ্ছান্তেঃ সত্যজিৎ চক্রবর্ত্তী
--------------------------------------
বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে যা বুঝলাম, কিছু প্রশ্ন আছে যা বারবার আসে। সেগুলোই মূলত সম্ভাবনাময় প্রশ্ন। আজকের আলোচনার বিষয় "ন্যায়পাল "। এই প্রশ্নটা ৩৩ তম, ৩২ তম এমনকি ৩০ তম বিসিএস এ ১ম ও ২য় পত্র সহ অসংখ্যবার এসেছে লিখিত পরীক্ষায়। যেহেতু অনেক গুরুত্বপূর্ণ টপিক তাই ন্যায়পালকে আমি ২বা ৩ সেশনে আলোচনা করব। আশা করি ২সেশনে হয়ে যাবে। আজ থাকছে "ন্যায়পাল:সেশন-১"
*  ন্যায়পাল কী?
Ombudsman বা ন্যায়পাল ধারণাটি প্রথম সুইডেনে উদ্ভাবিত হয়। সুইডিশ শব্দ "Ombudsman " কথাটির অর্থ হল প্রতিনিধি। অর্থাৎ ন্যায়পাল হল এমন এক ব্যক্তি যিনি অন্যের জন্য কথা বলেন বা অন্যের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৮০৯ সালে সুইডেনে যখন সংবিধান গ্রহণ করা হয় তখন উক্ত সংবিধানে বিশ্বে প্রথম Ombudsman বা ন্যায়পাল পদের সৃষ্টি হয়।
                                                                                                                                                                              * ন্যায়পাল সংক্রান্ত বাংলাদেশের সংবিধানঃ
বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানেই ন্যায়পাল পদ সৃষ্টির জন্য জন্য আইন প্রণয়নের বিধান রাখা হয়। ১৯৮০ সাল The Ombudsman Act 1980 পাশ করা হলেও আইনটি আজও কার্যকর হয়নি।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে অনুসারে-
১। সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পাল পদ সৃষ্টির জন্য বিধান করতে পারবেন।
২। সংসদ ন্যায়পালকে আইনের দ্বারা কোন মন্ত্রণালয়,সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের যেকোন কাজ সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরুপ ক্ষমতা কিংবা যেরুপ দায়িত্ব প্রদান করবেন, ন্যায়পাল সেরুপ ক্ষমতা বা দায়িত্ব পালন করবেন।
৩। ন্যায়পাল তার দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করবেন এবং অনুরুপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হবে।

* ন্যায়পালের প্রকারভেদঃ
নিয়োগ পদ্ধতি ও জবাবদিহিতার দিক থেকে ন্যায়পালকে প্রধানত ২ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। আইন বিভাগীয় ন্যায়পাল
২। শাসন বিভাগীয় ন্যায়পাল
যখন কোন ন্যায়পালকে দেশের আইনসভা কর্তৃক নিয়োগ করা হয় এবং আইনসভার নিকটই উক্ত ন্যায়পাল তার কাজের জন্য দায়ী থাকেন তখন উক্ত ন্যাপালকে আইন বিভাগীয় ন্যায়পাল বলে। ডেনমার্ক, সুইডেন,নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি অধিকাংশ দেশের ন্যায়পাল আইন বিভাগীয় ন্যায়পাল।
অন্যদিকে,যখন কোন ন্যায়পালকে দেশের শাসনবিভাগ কর্তৃক নিয়োগ করা হয় এবং শাসন বিভাগের নিকটই উক্ত ন্যায়পাল তার কাজের জন্য দায়ী থাকেন তখন উক্ত ন্যাপালকে আইন বিভাগীয় ন্যায়পাল বলে। যেমন নাইজেরিয়ার ন্যায়পাল।
* ন্যায়পাল হিসেবে যাকে নিয়োগ করা হয়ঃ
জনগণের অধিকারের রক্ষাকবচ হিসেবে ন্যায়পালের কার্যকারিতা নির্ভর করে তার ব্যক্তিগত দেশপ্রেম,চরিত্র ও নিরপেক্ষতার উপর। সুতরাং কোন প্রবীণ আইনজীবী, প্রাক্তণ বিচারক অথবা এমন অবসরপ্রাপ্ত সম্মানী ব্যক্তি যিনি সমাজে নন্দিত এবং যার নিরপেক্ষতায় সমাজে প্রায় সকল লোকই একমত থাকে তাকেই ন্যায়পাল হিসেবে নিয়োগ করা উচিৎ এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহে এটাই করা হয়।

=>পরবর্তী সেশনে থাকবে ন্যায়পালের নিয়োগপদ্ধতি, এ পদের যৌক্তিকতা, কেন বাংলাদেশে এ পদের নিয়োগ দেয়া হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপিত হবে। Collected

0 Reviews